একেবারেই সহজে বিজনেসের প্রকারভেদ সম্পর্কে অ আ ক খ।


বিজনেসের তো অনেক মডেল আছে। আমি একেবারে সহজ বাংলায় বুঝাই, যাতে সাইন্স আর্টসের পোলাপান ও বুঝে, দেখেন বুঝেন কিনা।

১। হকার মডেলঃ

আমি ধরেন রাস্তায় ভ্যান এ বা বাসে উঠে একটা প্রডাক্ট বিক্রি করি। যেইখানে কাস্টমারের সাথে আমার সেকেন্ড টাইম দেখা হবার চান্স প্রায় নাই ই। এইটা একজন ফেরীওয়ালা ও হইতে পারেন, আবার কোন মার্কেটের দোকানদার ও হইতে পারেন। চিন্তার ধরনের উপর নির্ভর করে এই ক্যাটাগরীতে কোন আইটি কম্পানীও থাকতে পারে। চিন্তার ধরন টা হইলো “একবারে যতটুকু পারি কোপায় নেই বা লাভ করে নেই। প্রডাক্টের কোয়ালিটি নিয়া মাথা ঘামানোর কোন দরকার ই নাই, কাস্টমার দুইদিন ও ইউজ করতে পারবে কিনা সেইটা নিয়েও মাথা ঘামানোর দরকার নাই, একবার বেচে ফেলে টাকা পকেটে ঢুকাইতে পারলেই হইলো।ভালো দিকঃ কুইক মানি, বেশী প্রফিট কারন প্রডাক্ট খারাপ।খারাপ দিকঃ যে একবার আপনার থেকে কিনবে, সে জীবনেও আপনার থেকে কিনবে না। এন্ড আপনার দুর্নামের কারনে এই জাহাজ অতি দ্রুত ডুবে যাবে।

১। আমি ব্র্যান্ড হবোঃ

ব্র্যান্ড হইতে হইলে নাম্বার ওয়ান হইলো প্রডাক্ট কোয়ালিটি ভালো হইতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রডাকশন খরচ যাবে বাইরা, সো প্রডাক্টের দাম হবে বেশী। পৃথিবীতে ব্র্যান্ড বলতে যাদের চিনেন, তাদের সবার ক্ষেত্রে এই “কোয়ালিটি” ব্যাপার টা কমন খেয়াল করছেন? এইখানে খরচ আরো বেড়ে যায় কাস্টমার সার্ভিসে। যেখানে একটা লোকাল মার্কেটে দোকানে একটা ছেলে রেখেই বিজনেস চালানো সম্ভব, সেখানে দোকানে আসা সব কাস্টমার রে সার্ভ করতে আপনার বেশী মানুষ লাগবে, খরচ আরেক ধাপ বাড়বে। সো এগুলান সবকিছু মিলায় দিনশেষে আপনার প্রডাক্টের দাম বেশী, বাট যারা কোয়ালিটি খুজেন, আপনার কাছে এসে একবার ভালো প্রডাক্ট পেয়ে যান, তারা লয়াল কাস্টমার হয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশী।এখানেঃভালো দিকঃ আপনার কাছে কাস্টমার বারবার ফিরে আসবে। কারন টা সাইকোলজি। তারা যেহেতু খরচ নিয়ে কম ভাবেন, কোয়ালিটি খুজেন এন্ড অলরেডী জানেন ওখানে গেলে আমি ভালো জিনিষ পাব, কিছু না ভেবেই ঐ দোকানে ফেরত যাবেন।খারাপ দিকঃ শুরু করতে অনেক মুলধন ( টাকা ) দরকার ভালো প্রডাক্ট বানাইতে। আবার পৃথিবীর বেশীরভাগ মানুষ গরীব হবার কারনে আপনার কাস্টমার বেইজ একটা বাজেট ব্র্যান্ড থেকে অনেক কম।

৩। আমি অলরেডী ব্র্যান্ডঃ

এটা নতুন করে হবা কঠিন, এখানে আপনার ইতিহাস লাগবে ব্র্যান্ড নেমের সাথে। ইন্টারন্যাশনালী ১০০-১৫০ বছর ধরে একটা কম্পানী ব্যাবসা করতেছে, টিকে আছে মানে আপনি অলরেডী জানেন তাদের কোয়ালিটি ভালো, কাস্টমার সার্ভিস ভালো। বাংলাদেশে ব্যাপার টা ২০ বছর ধরেন। এখানে ব্র্যান্ড সুধু কোয়ালিটি ই মেইনটেইন করে না, তাদের এই লম্বা সময়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও মেইনটেইন করে, করতে যা করতে হয় করে। প্রথম হ্যান্ডেই তাদের প্রডাকশন খরচ বেশী, অতি হাই কোয়ালিটি মেইনটেইন করতে যেয়ে তারা অনেক বেশী প্রডাকশন ও করতে পারেন না, সো কোয়ান্টিটি বা পরিমানেও আটকায় যান, যেইটা খরচ বাড়ায়। উদাহারন হইতে পারে রোলেক্স, বছরে রোলেক্স ১০ লাখ পিস ঘড়ি তৈরী করে। ১০ লাখ অনেক, কিন্তু পৃথিবীর মানুষ তো ৮৫০ কোটি। এইখানে আরেকটা বিশাল বড় সমস্যা আছে। আগের যুগে একটা মানুষ অনেক সময় নিয়ে সুক্ষ পিচ্চি পিচ্চি পার্টস হাতে বানিয়ে একটা মেকানিক্যাল ঘড়ি বানাইতে আগ্রহী ছিলো, এখন তো জেনারেশন টেকে কাজ করতে আগ্রহী হবে, তারা অন্য কাজ করবে। সো এইযে যারা এই ঘড়িগুলা বানায়, তাদের সংখ্যা দিন দিন যাইতেছে কমে। সো, চাহিদা বাড়লেও বানানোর মানুষ কমে যাচ্ছে দিন দিন। সো দাম বাড়তেই থাকবে, সহজ হিসাব।ভালো দিকঃ আপনি ফুড চেইনের একেবারে উপরে। বাজারে ১০ টা প্রডাক্টের চাহিদা থাকলে আপনার কাছে আছেই বিক্রির মত ২ টা, সো যা ইচ্ছা দাম নিতে পারেন এন্ড স্টিল মানুষ কিনবে। সো প্রতি প্রডাক্টে প্রফিট মার্জিন অনেক অনেক হাই।খারাপ দিকঃ নাম্বার ওয়ান, চাইলেই আপনি ২০ বছরের পুরনো কম্পানী হইতে পারবেন না। এন্ড আপনার প্রডাক্টের চাহিদা থাকলেও চাহিদা পুরন করতে পারবেন না, তো সেল স্বাভাবিক ভাবেই অনেক কম হবে।

৩। স্টার্ট আপঃ

এইটা কাইন্ড অফ নিউ কনসেপ্ট। ইন্টারনেট আসার আগে ব্যাপার টা তেমন প্র্যাকটিক্যাল ছিলো না। এইখানে আইডিয়া হচ্ছে প্রফিট কেমনে করবো সেই চিন্তা করার দরকার ই নাই, কাস্টমার বা ইউজার বাড়াইতে হবে। যখন অনেক ইউজার হবে, তখন চিন্তা করবো তাদের কাছ থেকে কিভাবে বিজনেস করা যায়। সো কাস্টমার বাড়াইতে আপনি মেবি কম্পিটিশন থেকে অনেক কম দামে লসে প্রডাক্ট দেন, বা আপনার সার্ভিস ফ্রি। আপনি সিমপ্লী চান মানুষ আপনার সার্ভিস ই ব্যাবহার করতে থাকুক, এডিক্টেড হয়ে যাক। সে যখন রেগুলার আপনার কাছে আসতেই থাকবে, তখন তার কাছে অনেক কিছুই বিক্রি করা যায়।প্রডাক্ট সেলিং এ আমাজন আজকে পর্যন্ত একটা স্টার্ট আপ কম্পানী, লসে চলে আমাজন ডট কম, বিশ্বাস হয়? সিম্পলী ওদের ক্লাউড বিজনেস থেকে আয় হয়, সেইটা দেখে ইনভেস্টর রা টাকা ঢালতেই থাকে, এন্ড এভাবেই চলতেছে আমাজন।ভালো দিকঃ যদি আপনার বিজনেস সফল হয়, আপনি ফিউচার বিলিওনিয়ার। ইভেন বিজনেস মোটামুটি গ্রো করলে ইনভেস্টর দের টাকায় ই ধনী হয়ে যাবেন বা বড় কোন কম্পানী আপনার কম্পানীকে কিনে নিবে।খারাপ দিকঃ প্রায় ৯৯.৯৯ পারসেন্ট সম্ভাবনা আছে আপনার স্টার্ট আপ ফেইল করবে, কোন ইনভেস্টর ই পাবে না, পেলেও ৩ বছর পর্যন্ত মানুষের ইন্টারেস্টে থাকবে না। সো দোকানে পারমানেন্ট তালা ঝুলাতে হবেই।

৫। সাবস্ক্রিপশনঃ

একেবারে নতুন না মডেল টা। আমরা ছোটব্যালায় ডিশ লাইন নিতাম না বাসাবাড়িতে? মাস গেলে কাস্টমার নিজ দায়িত্বে রিনিউ করবে টিভি দেখার জন্য। সো মডার্ন কিছু উদাহারন হইতে পারে নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই, বাংলাদেশে হইচই। সিম্পলী প্রতি মাসে কি বছরে কাস্টমার আপনাকে টাকা দিয়েই যাবে। ওয়ান টাইম সেলের থেকে এই মডেল টা ভালো। বিকজ আপনাকে মাসে ১০০০ টাকা দেয় এমন ১০০ জন ক্লায়েন্ট/কাস্টমার আপনার থাকলেই ১,০০,০০০ টাকা আসতেই থাকবে আপনার প্রতিমাসে। আপনারে সিম্পলী নিশ্চিত করতে হবে যে কাস্টমার পরের মাসে আপনার সার্ভিসে থাকবে তো? কাস্টমার ধরে রাখতে নেটফ্লিক্স কে একটার পর একটা সিরিজ, মুভি বানাইতেই থাকতে হবে, সেগুলার কোয়ালিটি ধরে রাখতে হবে, নাহলে মানুষ রিনিউ করবে না। আমার বিজনেস WebSea এই সেইম মডেলে বিজনেস করে। একজন বাড়িওয়ালা এই মডেলে বিজনেস করেন। তার বাসায় আপনার থাকতে হইলে আপনার প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হবেই।ভালো দিকঃ একবার নাম ডাক হয়ে গেলে, এন্ড সার্ভিসের মান ভালো রাখলে বা একটা ৫ তলা বিল্ডিং তুলে ফেলতে পারলে আয় নিয়ে আর মাথা ঘামাইতে হবে না। যখন ৫ তলায় ধরেন ৮ টা ফ্লাটের ভাড়া মাসে পাচ্ছেন, সেখানে আরেকজন মানুষকে স্যালারী দিয়ে ভাড়াটিয়াদের যাবতীয় প্রবলেম শোনার জন্য রেখে দিতে পারেন।খারাপ দিকঃ এই বিল্ডিং টা তুলতে অনেক টাকা দরকার, অথবা প্রতিনিয়ত ভালো সিরিজ বানাইতে নেটফ্লিক্সের অনেক টাকা দরকার। সো সাবস্ক্রিপশন মডেলে নামার আগে পকেটে হিউজ এমাউন্ট জরুরী। যতদিন দাঁড়িয়ে না যাচ্ছে, এমনকি দাঁড়ায় যাওয়ার পর ও, প্রডাক্ট/সার্ভিসের মান ভালো রাখতেই হবে। নাহলে মানুষ অন্য বাসায় চলে যাবে না আপনি তার পানির লাইন ঠিক না করে দিলে?

৬। দা মিডল ম্যানঃ

এটা শুনতে সহজ, বাট মানুষের সবথেকে কঠিন স্কিল গুলার একটা সেলস করার অভিজ্ঞতা থাকা বা বিক্রি করতে পারা। আপনি যদি বিক্রি করতে পারেন, তাহলে আপনার নিজের প্রডাক্ট থাকা লাগবে না, আপনি অন্যের প্রডাক্ট বিক্রি করেই নিজের প্রফিট বের করতে পারেন। এটাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলেন, বা আপনার এলাকার মুদি দোকানদার। দুজন ই মিডল ম্যান। আরেকটা কম্পানী প্রডাক্ট বানায়, এনারা সিম্পলী নিজের প্রফিট মার্জিন রেখে প্রডাক্ট টা আপনার হাতে তুলে দেন। এফিলিয়েট করতে হয়তো তেমন টাকা পয়সা লাগে না, বাট যেইটা লাগে সেইটা থাকলে আপনার আমার এই পোস্ট পড়ার দরকার ই নাই, বিক্রি করতে পারা। যে বিক্রি করতে পারে, সে ৩০০ মিলিওন ডলারের প্রাইভেট জেট ও বেচতে পারে, আবার ১০ টাকা দামের কলম ও। যে একবার বিক্রি করা শিখে গেছে, তারে দুনিয়ায় আর কে আটকাবে?ভালো দিকঃ মুলধন লাগে না তেমন। এখন ইন্টারনেটে আপনি অনেক কিছুই অন্যের প্রডাক্ট বিক্রি করে দিয়ে কমিশন নিতে পারেন কোন ইনভেস্ট না করেই। ইভেন সামনে কাউকে না পাইলে আমার কম্পানী WebSea তেই এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন সরাসরি। প্রসেস টা ইজি, কাউকে ব্র্যান্ড টা সম্পর্কে জানানো এন্ড আমাকে বলা যে ভাই অমুক কাস্টমার টা আমি পাঠাইছি, এন্ড একটা ভালো এমাউন্টের টাকা ( সর্বনিম্ন ৬০০ থেকে শুরু ) পেয়ে যাইতে পারেন ইজিলি। অবশ্য আমার এফিলিয়েট প্রোগ্রাম সুধুমাত্র আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের জন্য, বাট বহু আইটি কম্পানী ই পাবলিক এফিলিয়েট প্রগ্রাম চালু রাখে।খারাপ দিকঃ ম্যাক্সিমাম মানুষ বিক্রি করতে পারেন না। ইভেন নিজেকেই অন্যদের কাছে পছন্দ করার মত ক্যারেক্টার হিসাবে উপস্থাপন করতে পারেন না। ব্যাপার টা দালালী না, মানুষ নেগেটিভ ভাবে চিন্তা করতে ভালোবাসে, বাট আপনার বুঝতে হবে একজন মুদি দোকানদার ও তার নিজের দোকানে বিক্রি হবা কিছুই নিজে বানান না, অন্যদের প্রডাক্ট বেচেন।

তো এটা জাস্ট অ আর আ ছিলো। স্বরবর্ণ শেষ করে ব্যাঞ্জনবর্ণ ধরবো, তারপরে ব্যাকরন শিখবো আমরা, কেমন?